Exclusive Features

নাগরিক বোধের চর্চায় গড়ুন আগামীর বাংলাদেশ

আপনার ছোট একটি সচেতন পদক্ষেপই আনতে পারে বিশাল পরিবর্তন। দেশ ও দশের মঙ্গলে নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের পরামর্শগুলো জেনে নিন এবং মেনে চলুন।

আপনার দায়িত্ব

পরিবর্তনের শুরুটা হোক আপনার হাত ধরেই

একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের। যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, ট্রাফিক আইন মানা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার মাধ্যমে আমরাই পারি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত সমাজ নিশ্চিত করতে।

সড়ক যাতায়াত (Traffic)

Image link

হর্ন

সমস্যা

অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো আমাদের শহরে শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি পথচারী, শিশু এবং রোগীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং বিরক্তি সৃষ্টি করে।

সমাধান

জ্যামে আটকে থাকলে অযথা হর্ন বাজাবেন না।
হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে 'সাইলেন্ট জোন' মেনে চলুন।
ওভারটেক করার সময় হর্নের বদলে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন।
Image link

যত্রতত্র-পারাপার

সমস্যা

রাস্তার মাঝখান দিয়ে বা চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নিজের প্রাণনাশের পাশাপাশি সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজটের সৃষ্টি হয়।

সমাধান

সবসময় ফুট ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন।
রাস্তা পারাপারের সময় ডানে-বাঁয়ে ভালো করে দেখে নিন।
চলন্ত বাসের সামনে দিয়ে কখনোই রাস্তা পার হবেন না।
Image link

বেপরোয়া-গতি

সমস্যা

সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি, অথচ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। এটি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

সমাধান

নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালান।
বাঁক বা মোড়ে গাড়ির গতি কমিয়ে আনুন।
অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবেন না।
Image link

লেন-ভঙ্গ

সমস্যা

ইচ্ছামতো লেন পরিবর্তন বা উল্টোপথে গাড়ি চালানো পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। এতে দীর্ঘ যানজট এবং বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সমাধান

নিজের লেনে গাড়ি চালান, বারবার লেন বদলাবেন না।
উল্টোপথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন।
ধীরগতির বাহন রাস্তার বাম পাশ দিয়ে চালান।
Image link

ফুটপাত-দখল

সমস্যা

ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার জন্য, কিন্তু দোকানপাট বা মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের কারণে মানুষকে মূল রাস্তায় হাঁটতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

সমাধান

ফুটপাতে দোকান বসানো বা মালামাল রাখা বন্ধ করুন।
ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালাবেন না।
পথচারীদের হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করুন।
Image link

হাই-বিম

সমস্যা

রাতে শহরের রাস্তায় হাই-বিম লাইট ব্যবহার করলে বিপরীত দিকের চালকের চোখে ধাঁধা লাগে এবং তিনি কিছু দেখতে পান না, যা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ হতে পারে।

সমাধান

শহরের ভেতরে সবসময় ‘লো-বিম’ (Low-beam) ব্যবহার করুন।
শুধুমাত্র হাইওয়েতে প্রয়োজন হলে হাই-বিম ব্যবহার করুন।
বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসলে লাইট ডিম (Dim) করুন।

পরিচ্ছন্নতা (Hygiene)

Image link

থুতু ফেলা

সমস্যা

রাস্তাঘাট, সিঁড়ি বা বাসের জানালা দিয়ে থুতু ফেলা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়ায়।

সমাধান

জনসমক্ষে যেখানে সেখানে থুতু ফেলবেন না।
প্রয়োজনে টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করুন।
নির্দিষ্ট বেসিন বা ওয়াশরুম ব্যবহার করুন।
Image link

যত্রতত্র ময়লা

সমস্যা

চিপসের প্যাকেট, বোতল বা কাগজের টুকরো রাস্তায় ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শহর অপরিচ্ছন্ন দেখায়।

সমাধান

ময়লা সবসময় নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন।
ডাস্টবিন না থাকলে ময়লা নিজের কাছেই রাখুন।
প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে বা খালে ফেলবেন না।
Image link

যত্রতত্র মূত্রত্যাগ

সমস্যা

রাস্তার পাশে বা দেয়ালে মূত্রত্যাগ করা পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। এটি একটি অসভ্য আচরণ যা জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে।

সমাধান

সবসময় পাবলিক টয়লেট বা নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনে পেট্রোল পাম্প বা শপিং মলের ওয়াশরুম ব্যবহার করুন।
দেয়াল বা ফুটপাত নোংরা করা থেকে বিরত থাকুন।
Image link

পানের পিক

সমস্যা

পানের পিক ফেলে সুন্দর দেয়াল, সিঁড়ি বা করিডোর লাল করে ফেলা আমাদের জাতীয় বদভ্যাসগুলোর একটি। এটি পরিষ্কার করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

সমাধান

যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলবেন না।
পলিথিন বা নির্দিষ্ট পাত্রে পিক ফেলুন।
সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষা করুন।

আচরণ (Behavior)

Image link

লাইন ভঙ্গ

সমস্যা

ব্যাংক, টিকেট কাউন্টার বা বাস স্টপে লাইন ভেঙে সামনে যাওয়া অন্যের অধিকার হরণ এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। এটি অমার্জিত আচরণের পরিচায়ক।

সমাধান

ধৈর্য ধরে নিজের সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করুন।
বয়োজ্যেষ্ঠ বা অসুস্থদের অগ্রাধিকার দিন।
লাইন ভেঙে বিশৃঙ্খলা করবেন না।
Image link

ধাক্কাধাক্কি

সমস্যা

বাসে ওঠা বা ভিড়ের মধ্যে অযথা ধাক্কাধাক্কি করা বিরক্তির কারণ এবং অনেক সময় এটি মারামারিতে রূপ নেয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাবে এমনটি ঘটে।

সমাধান

ভিড়ের মধ্যে ধীরস্থির থাকুন, ধাক্কা দেবেন না।
অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগলে ‘সরি’ বলুন।
নামার বা ওঠার সময় অপরকে সুযোগ দিন।
Image link

কুনজর

সমস্যা

গণপরিবহনে বা রাস্তায় নারীদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা বা বাজে ইঙ্গিত করা মানসিকভাবে হয়রানি এবং চরম অসভ্যতা।

সমাধান

দৃষ্টি সংযত রাখুন এবং মার্জিত আচরণ করুন।
নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করুন।
কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে অযথা কৌতূহল দেখাবেন না।
Image link

চেঁচামেচি

সমস্যা

পাবলিক প্লেসে বা ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলা আশেপাশের মানুষের জন্য বিরক্তির কারণ। এটি পরিবেশের শান্ত ভাব নষ্ট করে।

সমাধান

পাবলিক প্লেসে নিচু স্বরে কথা বলুন।
ফোনে কথা বলার সময় হেডফোন ব্যবহার করুন।
গান শোনার সময় অন্যের অসুবিধা হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।

নৈতিকতা (Ethics)

Image link

ভাঙচুর

সমস্যা

রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বাসের সিট কাটা, পার্কের বেঞ্চ ভাঙা বা পাবলিক প্রপার্টি নষ্ট করা নিজের দেশের সম্পদ ধ্বংস করার শামিল।

সমাধান

রাষ্ট্রীয় সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করুন।
কোনো কিছু নষ্ট করবেন না বা নোংরা করবেন না।
কেউ ভাঙচুর করলে তাকে বাধা দিন বা রিপোর্ট করুন।
Image link

ঘুষ

সমস্যা

ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়া দুটোই অপরাধ। এটি সমাজের ন্যায়বিচার ও মেধার মূল্যায়ন নষ্ট করে এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি করে।

সমাধান

সকল কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন।
অন্যায্য সুবিধা লাভের জন্য টাকা দেবেন না।
নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন।
Image link

গুজব

সমস্যা

সত্যতা যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর শেয়ার করা অনেক সময় সমাজে অস্থিরতা, দাঙ্গা বা বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সমাধান

শেয়ার করার আগে তথ্যের উৎস যাচাই করুন।
আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুয়া খবর ছড়াবেন না।
দায়িত্বশীল নেটিজেন হোন।
Image link

মজুদদারি

সমস্যা

অধিক মুনাফার আশায় পণ্য লুকিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় এবং এটি অনৈতিক।

সমাধান

প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনবেন না বা জমাবেন না।
ন্যায্য মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কে উৎসাহিত করুন।
সংকটের সময় সহানুভূতিশীল হোন।

পরিবেশ (Environment)

Image link

অপচয়

সমস্যা

অপ্রয়োজনে ফ্যান-লাইট জ্বালিয়ে রাখা বা কল ছেড়ে রাখা জাতীয় সম্পদের অপচয়। পানি ও বিদ্যুতের এই অপচয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি।

সমাধান

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সুইচ বন্ধ করুন।
কাজ শেষে পানির কল ভালো করে বন্ধ করুন।
দিনের আলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
Image link

দূষণ

সমস্যা

কালো ধোঁয়া, কারখানার বর্জ্য এবং রাসায়নিক দ্রব্য আমাদের বাতাস ও পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

সমাধান

নিয়মিত গাড়ির ফিটনেস চেক করুন।
বেশি বেশি গাছ লাগান এবং যত্ন নিন।
জলাশয়ে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
Image link

প্লাস্টিক

সমস্যা

পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক শত বছরেও পচে না। এগুলো মাটি ও পানির উর্বরতা নষ্ট করে এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে।

সমাধান

কেনাকাটায় পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক গ্লাস/প্লেট বর্জন করুন।
প্লাস্টিক পণ্য পুনর্ব্যবহার (Recycle) করুন।
Image link

বৃক্ষ-নিধন

সমস্যা

নগরায়নের অজুহাতে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা এবং নতুন গাছ না লাগানো আমাদের শহরের তাপমাত্রা অসহনীয় করে তুলছে। এটি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করছে।

সমাধান

বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটা থেকে বিরত থাকুন।
বাড়ির ছাদে, বারান্দায় বা আঙিনায় ছোট পরিসরে বাগান করুন।
বিশেষ দিবস বা জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগান ও পরিচর্যা করুন।
Image link

দায়িত্বশীল আচরণই সুনাগরিকের পরিচয়

নাগরিক বোধ কেবল নিয়ম মানা নয়, এটি অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। নিজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, জনসম্পদ রক্ষা করা এবং মার্জিত আচরণের মাধ্যমে আপনিও হতে পারেন এই ইতিবাচক পরিবর্তনের গর্বিত অংশীদার।

সুনাগরিকের মূল ভিত্তি

দেশপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়, এটি দায়িত্ব পালনের নাম। একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়তে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই তিনটি মূলনীতি মেনে চলা জরুরি।

পরিবেশ সচেতনতা
নিজের শহরকে নিজের ঘর ভাবুন। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে, প্লাস্টিক বর্জন করে এবং গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করুন।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা
ট্রাফিক আইন থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলুন। তাড়াহুড়ো বা বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করুন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা
অন্যের অধিকার ও সুবিধার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। সকলের প্রতি মার্জিত আচরণ ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করুন।